ডেস্ক রিপোর্ট: বাংলাদেশে এ বছর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না। জেএসসি এবং এসএসসি পরীক্ষার গড় ফলাফল যোগ করে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই এইচএসসির ফল মূল্যায়ন করে প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন ডা. দীপু মনি। করোনা পরিস্থিতিতে সরকারের এ ধরনের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেয়ার ফলে গতবার অর্থাৎ ২০১৯ শিক্ষাবর্ষের এইচএসসি পরীক্ষায় যারা ফেল করেছেন তারও এবার জেএসসি ও এসএসসির গড় ফলাফলের ভিত্তিতে পাস করে যাবেন।

বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে সংবাদিকদের সঙ্গে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী পরীক্ষা বাতিল করার ঘোষণা দেন।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, “আমাদের দেশে যেভাবে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়, সেভাবে হলে শিক্ষার্থীদের পাশাপশি পরীক্ষা আয়োজনের সাথে জড়িতদের মধ্যেও করোনাভাইরাস সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় তাই ভিন্নভাবে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।”

তিনি বলেন, “এইচএসসির আগে সব পরীক্ষার্থীকে জেএসসি ও এসএসসি, এই দুটি পাবলিক পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। তাই আমরা এই দুই পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে এইচএসসির ফলাফল তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।”

“এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীদের মূল্যায়নের পদ্ধতি যেন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হয়, সেবিষয়টি মাথায় রেখে আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

শিক্ষামন্ত্রী জানান চূড়ান্ত ফলাফল কী হবে তা ডিসেম্বরের মধ্যে জানানো হবে।

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “গতবার যারা ফেল করেছে, তাদেরও জেএসসি ও এসএসসির ফলের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে।”

গতবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ১৩ লাখ ৩৬ হাজার ৬২৯ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের মধ্যে পাস করে নয় লাখ ৮৮ হাজার ১৭২ জন।

সেই হিসেবে গত বছর উচ্চ মাধ্যমিকে ফেল করেছিলেন তিন লাখ ৪৮ হাজার ৪৫৭ জন শিক্ষার্থী, যারা এবার আর কোনো পরীক্ষায় অংশ না দিলেও উচ্চ মাধ্যমিকের সনদ পাবেন।

এইচএসসিতে দুই বিষয়ে (সর্বোচ্চ চার পত্র) ফেল করলে পরের বছর শুধু ওইসব বিষয়ে পরীক্ষা দেওয়া যায়। উচ্চ মাধ্যমিকে একজন শিক্ষার্থীকে সাতটি বিষয়ে ১৩টি পত্রে পরীক্ষায় বসতে হয়।