নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনা জানার পরও তথ্য গোপন করার অভিযোগে স্থানীয় ইউপি মেম্বারকে গ্রেফতার করে পুলিশ রিমাণ্ডে নিয়েছে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের তদন্ত দল মঙ্গলবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে স্থানীয় লোকজন এবং ক্ষতিগ্রস্ত নারীর বক্তব্যের ভিত্তিতে স্থানীয় থানায় নতুন একটি ধর্ষণ মামলা করেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত নারীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে কমিশনের তদন্ত দলের প্রধান বলেছেন, ক্ষতিগ্রস্ত নারী এখনকার ঘটনার আগে গত দুই বছরে তাকে দু’বার ধর্ষণ করার অভিযোগ জানিয়েছেন। এর ভিত্তিতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন মামলাটি করেছে।

বিবস্ত্র করে গৃহবধূকে নির্যাতনের ঘটনাটির এক মাস পর সেই ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে যখন ছড়িয়ে পড়ে, এরপর এই ঘটনা নিয়ে তোলপাড় চলছে।

তবে এখন অভিযোগ উঠেছে, গত ২রা সেপ্টেম্বর ঘটনা ঘটার পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি তা জানার পরও কোন ব্যবস্থা নেননি। সেজন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বারকে গ্রেফতার করে ঘটনা গোপন করার অভিযোগ এনে তাকে দুই দিনের পুলিশি রিমাণ্ডে নেয়া হয়েছে।

নোয়াখালী জেলার পুলিশ সুপার মো: আলমগীর হোসেন বলেছেন, ঘটনা কেন গোপন করা হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত নারীর সাথে কথা বলে তারা জানতে পেরেছেন যে, ঘটনার পর তিনি ইউপি মেম্বারকে অবহিত করেছিলেন। কিন্তু কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

“এই যে ইউপি মেম্বার বড় একটা অপরাধ করেছে। এমন বড় একটা ঘটনা গোপন করেছেন। এটা অপরাধীদের এক ধরণের উস্কানি দেয়া বা লুকিয়ে রাখার অপরাধ হয়েছে। সেজন্য তাকে গ্রেফতার করে তার বিরুদ্ধে ঘটনা গোপন করার অভিযোগ আনা হয়েছে।”

মি: হোসেন আরও বলেছেন, “ক্ষতিগ্রস্ত আমাদের কাছে যে বক্তব্য দিয়েছে এবং আদালতে জবানবন্দি যা দিয়েছে-এই দু’টো বক্তব্যকে মিলিয়ে আমরা তদন্ত শুরু করেছি।”

দু’দিন ধরে নির্যাতনের ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন সংগঠন বিক্ষোভ করছে।

মঙ্গলবার ঢাকায় শাহবাগের কাছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে একটি কালো পতাকা মিছিলে পুলিশ বাধা দিয়েছে। সেই মিছিলকারীদের সাথে পুলিশের ধস্তাধস্তি হলে এক পর্যায়ে পুলিশ লাঠিপেটা করে।

নোয়াখালীতে বিভিন্ন নারী সংগঠন জোটবদ্ধ হয়ে প্রতিবাদ করছে। সেই জোটের একজন নেত্রী লায়লা পারভিন বলেছেন, নির্যাতনের ঘটনা এবং ঘটনা গোপন রাখা-দু’টি বিষয়েই তারা দ্রুত বিচার চাইছেন।

“জনপ্রতিনিধি যখন ব্যবস্থা নেননি। সেটা একটা বড় গাফিলতি। সেজন্য সামগ্রিকভাবে বিচার কার্যক্রম শুরু না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।”

নির্যাতন এবং ভিডিও ছড়িয়ে দেয়া- এই দুই অভিযোগে দু’টি মামলায় গ্রেফতারকৃত পাঁচজনের মধ্যে তিনজনকে পুলিশ বিভিন্ন মেয়াদে রিমাণ্ডে নিয়েছে।

তবে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন নতুন একটি ধর্ষণ মামলা করেছে।

কমিশনের তদন্ত দল মঙ্গলবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

এই তদন্ত দলের প্রধান এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের পরিচালক আল মাহমুদ ফায়জুল কবির বলেছেন, তারা ক্ষতিগ্রস্ত নারী এবং স্থানীয় লোকজনের বক্তব্য নিয়েছেন এবং তার ভিত্তিতেই তারা নতুন মামলাটি করেছেন।

“ভিকটিম আমাদের যেটা বলেছে, সেটা হচ্ছে, তাকে ইতিপূর্বে দুইবার ধর্ষণ করেছে। সে ঐ ঘটনার স্থান এবং সময়ও বলেছে। এক বছর আগে প্রথম এবং গত রোজার কিছুদিন আগে তাকে দ্বিতীয়বার ধর্ষণ করেছে। এ সময় তাকে হুমকি দেয় যে, সে এতে রাজি না হলে তাকে গণধর্ষণ করবে। সেজন্য আমরা আজ ধর্ষণ মামলা করেছি।”

“ক্ষতিগ্রস্তের বক্তব্য মতে, সে এতই নিরীহ আর ওরা এতই শক্তিশালী এবং সশস্ত্র ও ভয়ংকর, সেজন্য ক্ষতিগ্রস্ত কোন মামলা করতে সাহস পায়নি।”

এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, ঘটনা জানার সাথে সাথেই আইন শৃঙ্খলা রক্ষকারী বাহিনী অভিযুক্তদের ধরতে পেরেছে। অভিযুক্ত যেই হোক না কেন-তাদের কোন ছাড় নেই বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। বিবিসি বাংলা