ডেস্ক রিপোর্ট: ম্যাচ ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব পেয়ে প্রত্যাখ্যান করলেও বিষয়টি আইসিসি কিংবা বিসিবির কাছে গোপন করায় বিশ্ব সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। তবে নিজের ভুল স্বীকার করায় তার শাস্তি এক বছর কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানায় আইসিসি।

এদিকে শাস্তি শোনার পর সাকিব বলেন, আমার ভালোবাসার খেলাটি থেকে নিষিদ্ধ হওয়ায় আমি অত্যন্ত বিষণ্ণ। তবে আইসিসিকে রিপোর্ট না দেওয়ায় আমার বিরুদ্ধে যে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে তা আমি মেনে নিচ্ছি। দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করতে কেন্দ্রীয় ভূমিকা রাখার জন্য খেলোয়াড়দের ওপর নির্ভরশীল আইসিসি দুর্নীতিবিরোধী ইউনিট (এসিইউ)। কিন্তু আমি এক্ষেত্রে আমার দায়িত্ব পালন করতে পারিনি।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বব্যাপী ক্রিকেটার এবং ফ্যানদের মতো আমিও চাই দুর্নীতিমুক্ত ক্রিকেট। আমি আইসিসির এসিইউ টিমের শিক্ষা প্রোগ্রামে অংশ নিয়ে তাদের সহযোগিতা করতে চাই এবং আমি যে ভুলটি করেছি তা যেনো আর কোনো তরুণ ক্রিকেটার না করেন সেটি নিশ্চিত করতে সহযোগিতা করতে চাই।

সাকিব আল হাসান আইসিসি থেকে এবারই প্রথমবারের মতো শাস্তি পেলেও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) থেকে এর আগে বিভিন্ন মেয়াদে নিষেধাজ্ঞা ও শাস্তি পেয়েছেন বিশ্বসেরা এই অল-রাউন্ডার।

২০১৪ সালে শ্রীলংকার বিপক্ষে একটি ম্যাচে টেলিভিশন ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করার দায়ে সাকিবকে প্রথমবার নিষিদ্ধ করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। এ ঘটনায় প্রথমে তাকে ৩ ম্যাচ নিষিদ্ধ করে বোর্ড। পরে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করে বোর্ডের ডিসিপ্লিনারি কমিটি।

একই বছরের ৭ জুলাই শৃঙ্খলাভঙ্গ ও আচরণগত সমস্যার অভিযোগে ঘরোয়া এবং আন্তর্জাতিক সব ধরনের ক্রিকেটে ৬ মাসের জন্য নিষিদ্ধ হন সাকিব। এছাড়া পরবর্তী দেড় বছর দেশের বাইরে কোনো টুর্নামেন্টে খেলার জন্য তাকে এনওসি (অনাপত্তিপত্র) না দেয়ারও ঘোষণা দেয় বিসিবি। অবশ্য পরবর্তীতে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ ৩ মাস কমানো হয়।

এরপর তেমন কোনো শাস্তির আওতায় পড়েননি সাকিব। তবে বিভিন্ন সময় বিসিবি ও তার দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছে। বিশেষ করে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বরাবরই বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাকে দায়ী করে বক্তব্য দিয়েছেন। দিন কয়েক আগে গ্রামীণফোনের সঙ্গে চুক্তি করায় সাকিবকে আবার শাস্তির আওতায় আনার কথা বলেন তিনি। গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পাপন বলেন, সাকিবের জন্য বিসিবি ১০০ কোটি টাকা হারিয়েছে। এজন্য অন্য খেলোয়াড়রাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে মনে করেন তিনি।