করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) প্রতিরোধে মার্কিন প্রতিষ্ঠান ফাইজারের তৈরি ভ্যাকসিনের ৯০% সফলতার পর এবার চমক দেখালো রাশিয়ার বিজ্ঞানীরা। দেশটিতে কোভিড-১৯ এর টিকার যে ট্রায়াল চলছিল তা ৯২% সফল বলে প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে।

বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যে ১৬ হাজার মানুষ স্বেচ্ছায় এই ট্রায়ালে অংশ নিয়েছিলেন তাদের এক অংশকে স্পুটনিক ফাইভ নামের এই টিকা দেয়া হয়েছিল এবং বাকিদের যে ইঞ্জেকশন দেয়া হয়েছিল তাতে কোন ভ্যাকসিনের ওষুধ ছিল না। এদের মধ্যে ২০ জনের শরীরে এই টিকা ৯২% সফলতা দেখিয়েছে।

স্পুটনিক ফাইভ টিকা তৈরি করা হয়েছে মস্কোর এপিডেমিওলজি ও মাইক্রোবায়োলজি বিষয়ক জাতীয় গবেষণা কেন্দ্রে। এই মুহূর্তে বেলারুস, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ভারত এবং ভেনেজুয়েলায় তাদের উদ্ভাবিত টিকার তৃতীয় পর্যায়ের ক্লিনিকাল ট্রায়াল চলছে।

এখনও পর্যন্ত এই টিকা নিরাপদ বলেই মনে করা হচ্ছে কারণ এর কোনোরকম অনিরাপদ প্রতিক্রিয়া এখনও পর্যন্ত দেখা যায়নি।

রুশ গবেষকরা বলছেন, এই টিকা দুটি ডোজে প্রয়োগ করার প্রয়োজন হবে এবং যারা স্বেচ্ছায় এই ট্রায়ালে অংশ নিচ্ছে তাদের মধ্যে প্রথম ডোজটি দেবার ২১দিন পরেও ”অপ্রত্যাশিত কোন নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি”।

তবে এটা অন্তর্বর্তীকালীন তথ্যউপাত্ত। ফাইজারের ভ্যাকসিন ট্রায়ালের মত স্পুটনিক ভাইভ ট্রায়ালও এখন আরও তথ্য সংগ্রহ করছে।

মস্কোর গামালেয়া রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক আলেকজান্ডার গিন্টসবার্গ বলেছেন, স্পুটনিক ফাইভ খুব শিগগিরিই ব্যাপকভাবে ব্যবহারের জন্য বাজারে পাওয়া যাবে এবং এই টিকা প্রথমে রাশিয়ায় এবং পরে বিশ্বের অন্যান্য দেশেও কোভিড-১৯ সংক্রমণের হার কমিয়ে আনতে পারবে।

লন্ডনে ইম্পিরিয়াল কলেজের ইমিউনোলজির প্রধান অধ্যাপক চার্লস ব্যাংহাম বলেছেন, এই ফলাফল বিজ্ঞানীদের নতুন করে আশ্বস্ত করেছে যে কোভিড-১৯ মোকাবেলায় কার্যকর টিকা উদ্ভাবন সম্ভব।

তবে তিনি আরও বলেন, যে রাশিয়ার উদ্ভাবিত এই টিকা এবং ফাইজারের টিকাও কতটা নিরাপদ এবং কতটা কার্যকর, তাদের ট্রায়ালের পূর্ণাঙ্গ তথ্যউপাত্ত প্রকাশ করার পর সেটার যথাযথ মূল্যায়ন জরুরি।

বিশ্ব জুড়ে কোভিড প্রতিরোধে কয়েকশ টিকা উদ্ভাবনের জন্য গবেষণা চলছে এবং এগুলোর মধ্যে যে তিনটি এখন পরীক্ষার চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে সেগুলো হলো- স্পুটনিক, ফাইজার এবং অক্সেফার্ড-এর ভ্যাকসিন।

রুশ গবেষকরা বলছেন, ৫০টির বেশি দেশ থেকে তাদের কাছে ১২০ কোটি ডোজের বেশি স্পুটনিক ভ্যাকসিন সরবরাহের অনুরোধ এসেছে। তারা দাবি করছেন বিশ্ব বাজারের চাহিদা মেটাতে তারা প্রতি বছর তারা ৫০ কোটি ভ্যাকিসন উৎপাদন করতে পারবেন।

এদিকে বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে মোট মৃত্যু বেড়ে দাঁড়াল ৬ হাজার ১৪০ জনে। একইসময়ে নতুন করে আরও এক হাজার ৮৪৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর ফলে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৪ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জনে।

এর আগে গতকাল বুধবার দেশে করোনাভাইরাসে ১৯ জনের মৃত্যু এবং এক হাজার ৭৩৩ জন রোগী শনাক্ত হওয়ার কথা জানানো হয়।

এছাড়া ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্যানুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৫ কোটি ২৪ লাখ ২২ হাজার ৬০ জন। মৃত্যু হয়েছে ১২ লাখ ৮৮ হাজার ৮৯৯ জনের। সুস্থ হয়েছেন তিন কোটি ৬৬ লাখ ৬৮ হাজার ৫৩৭ জন।