২১ জুলাই ও কতিপয় প্রশ্ন
২১ জুলাই কর্নেল আবু তাহের বীর উত্তম-এর হত্যা দিবস । এই দিন আমরা ভুলি কেমনে? কর্নেল তাহেরআমাদের স্বপ্ন কি হারিয়ে গেল? স্বপ্ন কি আকাশের তারা হয়ে গেছে? ২১ শে জুলাই, ৪৪ বছর আগে মহান মুক্তিযুদ্ধের ১১ নং সেক্টর কমান্ডার, জাসদে’র সহ-সভাপতি, পরবর্তিতে বিপ্লবী গণবাহিনীর সর্বাধিনায়ক মেজর(অবঃ) আবু তাহের বীর উওম-এর হত্যা বার্ষিকী! খুনি জিয়া কর্নেল তাহেরকে ফাঁসিতে ঝুঁলিয়ে হত্যা করে। কর্নেল আবু তাহের বিপ্লবী ছিলেন, সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য নিজের জীবন দিয়ে গেছেন । উনি যেই দল করতেন সেই দল বহুধা বিভক্ত! এমনকি তার পরিবার(ভাইরা ও স্ত্রীও)। কেউ কেউ বিভিন্ন দল করেছেন বা এমপি হয়েছিলেন! কর্নেল আবু তাহের আজন্ম বিপ্লবী ছিলেন। তার আরাধ্য কাজ “সমাজতন্ত্র ” নতুন প্রজম্ম প্রতিষ্ঠা করবেই, এই বিশ্বাস আমি করি। তাহের তোমায় লাল সালাম ।
আজ আমি একটি অন্য বিষয়ে দু’একটি কথা বলতে চাই-যেটি অনেকের খারাপ লাগবে বা কারো ভালো লাগলেও লাগতে পারে। ৭ ই নভেম্বর ও ২১ শে জুলাই এবং কর্নেল তাহের সমার্থক হয়ে আছে। এ বিষয়ে নির্মোহভাবে কেউ সত্য ঘটনা আলোচনা করে না। হ্যা, সত্য ঘটনা কেউই বলতে চায় না ! আমি তো মনে করি, সব কিছু খোলাসা করার সময় হয়েছে এখন। আমি এও মনে করি, ৭ নভেম্বর এবং ২৬ নভেম্বর এই দুই ঘটনা জাসদকে ব্যাকফুটে নিয়ে যায়, যেই রেশ এখনো বয়ে বেড়াতে হচ্ছে ৮ ভাগে বিভক্ত জাসদ-বাসদকে। আমি এও মনে করি এই দুই ঘটনাতেই জাসদকে সুপরিকল্পিতভাবে জড়ানো হয়েছে বা জড়িয়ে পরতে বাধ্য করা হয়েছিল। তাই এ বিষয়ে খোলসা কে করবে বা খোলসা করা প্রয়োজন আছে কি না, ৭ ই নভেম্বর ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারীর ৩ জন এখনও বেঁচে আছেন, তারা কি বলবেন কিছু এ বিষয়ে?
আমি আজ ৪৪ বছর পর শুধু একটি কথা বলে আপাতত: শেষ করতে চাই-আমরা সবসময় বলতাম বা বলি “জিয়া তাহেরের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। তাই প্রশ্ন জাগে, জিয়া’র সাথে তাহেরের কি বিশ্বাস ছিল, যা কিনা জিয়া ভংগ করেছে? সেই বিশ্বাসটুকু জানা বড়ই প্রয়োজন। তখন আমি খুবই ক্ষুদ্র কর্মী ছিলাম, তখন বুঝি নাই এখন বুঝতে চাই। কারো পক্ষে বিপক্ষে মত থাকলে এখানে বলতে পারেন plz.
ঐ মামলায় মাত্র ১ জনেরই ফাঁসি হয়! কোনো অভ্যুথ্থান ব্যর্থ হলে লক্ষ লক্ষ নেতা কর্মিদের ফাঁসি বা গুলি করে হত্যা করা হয়। যেমন হয়েছিল শ্রীলংকার জনতা বিমুক্তি পেরামুনা(জে বি পি )-এর দল – বিজেপি’র ১০ লক্ষ কমুনিস্টদের হত্যা করা হয়েছিল ১৯৭০ সনে। অথচ এখানে তেমনটি হয় নাই কেন? শুধু মাত্র কর্নেল তাহেরকে একা ফাঁসি দিয়ে সবাইকে লঘুদণ্ড দিয়ে ২/৩/৪ বছর পর সবাইকে মুক্ত করে দেয়া হয়।
এটি রহস্যজনক কিনা বলুন? বাকী যারা বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড ভোগ করছিলেন সবাই সেই মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়ে জেল থেকে বের হয়ে যান ২/৩/৪ বছরের মধ্যে। শুধু মাত্র কর্পোরাল আলতাফ ঐ মামলার দন্ডপ্রাপ্ত হয়ে পলাতক ছিলেন, পরে তিনি টাংগাইলে এক কম্বিং অপারেশনে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। বড় জানতে ইচ্ছে করে-কীভাবে সবাই জেল থেকে বের হয়ে গেলেন, কারাদন্ড মওকুফ কোন কারণে করা হলো?
জিয়াউর রহমানের সঙ্গে এ বিষয়ে কে কে ডিল করেছিল? পি পি আর-এর আওতায় জাসদকে রাজনীতি করার অনুমতি দেয়া হয়েছিল। জাসদ তখন নিষিদ্ধ ছিল। যাক পরবর্তিতে ১৯৭৯ সনের নির্বাচনে জাসদের ৮ জন এম পি নির্বাচিত হয় এবং ঐ সময়ে গণবাহিনী অধ্যুষিত এলাকায় যারা সশম্ত্র যুদ্ধ করে বা বিভিন্ন অপারেশনে ছিলেন, মামলাও হয়েছিল, জিয়াউর রহমান কেন সেই সব নেতাদের মামলা তুলে নিয়েছিল এবং কেউ কেউ অস্ত্র জমা দিয়েও মুক্ত হয়েছিলেন এবং গণবাহিনী অন্চলের সেই ৮ জন এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন! নাম এখানে আর নাই বা বললাম সেই নেতাদের!
মিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন এখন মনে উঁকি ঝুঁকি মারে, ঐ সময়ে এ সকল ডিল জাসদের পক্ষে কে কে করেছিলেন? এও শোনা গেছিল বৈষয়িক সুবিধা কেউ কেউ নিয়েছিল, যেমন চাকুরী , ব্যবসা ও প্লট! এই সকল বৈষয়িক সুবিধা পাওয়ার জন্য জিয়াউর রহমানের পক্ষে দায়িত্ব প্রাপ্ত ছিলেন তৎকালীন কৃষি মন্ত্রী জে: শিশু। জানতে চাই- জাসদের পক্ষে কে কে ছিলেন? জিয়াউর রহমান কি এসব কিছু মেনে নিয়েছিলেন? করে দিয়েছিলেন? যদি কেউ জানেন এখানে বলতে পারেন।
কর্নেল তাহের অমর হোক। সবাই সুস্হ ও নিরাপদে থাকুন এই করোনাকালে। ধন্যবাদ ।

লেখক: বাদল খান, শ্রমিক নেতা।