সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্ষণের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় সারাদেশে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। প্রায় সব মহল থেকেই ধর্ষণকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের দাবি উঠেছে। এমন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড থেকে বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড করে চলতি সপ্তাহেই রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ জারি হতে পারে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের দফতর বিষয়ক সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া।

ধর্ষণ প্রতিকারে বিশ্বের সব দেশেই আইন-কানুন রয়েছে। এর মধ্যে কারাদণ্ডের বিধানসহ সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধানও রয়েছে। চলুন জেনে নেয়া যাক বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ধর্ষণের কী কী শাস্তি রয়েছে-

ভারত, রাশিয়া, ইরান, চীন, গ্রিসসহ এশিয়া-ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। তবে যুক্তরাষ্ট্র, নরওয়েসহ উন্নত বিশ্বের কিছু দেশে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি ৩০ বছর কারাদণ্ড।

আর বাংলাদেশে ধর্ষণের শাস্তি দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৩৭৬ ধারায় বলা হয়েছে। এই আইনে শুধুই ধর্ষণের ঘটনায় সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। তবে ধর্ষণের ফলে ধর্ষিতার মৃত্যু হলে সে ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। এছাড়া জরিমানারও বিধান রয়েছে।

এদিকে প্রতিবেশী দেশ ভারতে ২০১৩ সালে ধর্ষণের শাস্তি কঠোর করা হয়েছে। বিশেষ ক্ষেত্রে ধর্ষককে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে দেশটিতে। তবে ভারতে সচরাচর সাত থেকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

এশিয়ার বৃহৎ দেশ চীনে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় ধর্ষকের যৌনাঙ্গ কেটে দেয়ার নিয়মও রয়েছে।

এশিয়ার আরেক দেশ ইরানে সাধারণত ধর্ষককে জনসম্মুখে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে অথবা গুলি করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ধর্ষিতার অনুমতি নিয়ে ধর্ষককে জনসম্মুখে ১০০ দোররা (চাবুক) মারা অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়।

গ্রিসে ধর্ষণের শাস্তি অন্যান্য দেশের তুলনায় একেবারেই ভিন্ন কিছু। দেশটিতে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। আর এই শাস্তি আগুনে পুড়িয়ে কার্যকর করা হয়।

মিসরে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হলে জনাকীর্ণ এলাকায় জনসম্মুখে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার বিধান প্রচলিত রয়েছে।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় উত্তর কোরিয়ার নিয়ম-কানুন ও আচার-আচরণে অনেক তফাৎ রয়েছে। সেখানেও ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। এই শাস্তি কার্যকরে ধর্ষককে ফায়ারিং স্কোয়াডে নিয়ে মাথায় গুলি করা হয়।

তবে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ আফগানিস্তানে ধর্ষণের ক্ষেত্রে দ্রুত বিচার কার্যকর করার বিধান রয়েছে। এক্ষেত্রে আদালতের রায়ের চার দিনের মধ্যে ধর্ষকের মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়।

সৌদি আরবেও ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। দেশটিতে জনসম্মুখে ধর্ষকের শিরশ্ছেদ করে এই সাজা কার্যকর করা হয়, যাতে অন্যরা এ থেকে শিক্ষা নিতে পারেন।

আফগানিস্তানের মতো সংযুক্ত আরব আমিরাতেও ধর্ষকের বিচার দ্রুত কার্যকর করা হয়। দেশটিতে রায়ের সাত দিনের মধ্যে ধর্ষককে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে সাজা কার্যকর করা হয়।

ইউরোপের ফ্রান্সে ভিকটিমের ক্ষতি কতটা গুরুতর, তার ওপর ধর্ষকের শাস্তি নির্ভর করে। সেখানে ধর্ষকের সাজা ৩০ বছর থেকে আমৃত্যু কারাদণ্ড।

আর নেদারল্যান্ডসে ধর্ষণের শাস্তি হিসেবে চার থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দেয়া হয়। দেশটিতে যেকোনো ধরনের যৌন নিপীড়ন, অনুমতি ছাড়া জোর করে চুম্বনও এ ধরনের অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। আর রাশিয়ায় ধর্ষণের শাস্তি তিন থেকে ৩০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড।

তবে বিশ্বের শীর্ষ শক্তিধর রাষ্ট্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দুই ধরনের আইন প্রচলিত রয়েছে। একটি অঙ্গরাজ্য আইন এবং অপরটি ফেডারেল আইন। ফেডারেল আইনে মামলা হলে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। তবে একেক অঙ্গরাজ্যে একেক রকম শাস্তি।

আর ইউরোপের অপর দেশ নরওয়েতে ধর্ষকের সাজা চার থেকে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড। ইসরায়েলে ধর্ষণের শাস্তি চার থেকে সর্বোচ্চ ১৬ বছরের কারাদণ্ড।