ডেস্ক রিপোর্ট: অনলাইন ইকমার্স প্ল্যাটফর্ম দারাজ (daraz.com.bd) এর বিরুদ্ধে প্রতারণার একাধিক অভিযোগ উঠেছে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে এরই মধ্যে ৮১৭টি অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগকারীরা বলছেন, দারাজ বাংলাদেশে ব্যবসা নয়, বরং প্রতারণার দোকান খুলে বসেছে। এছাড়া অভিযোগের গণশুনানিতে হাজির না হওয়ায় দারাজের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশে ২০১৫ সালে ‘দারাজ বাংলাদেশ’ নামে প্রতিষ্ঠানটির অনলাইনে পন্য বিক্রির কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর ২০১৮ সালে চীনা বহুজাতিক কোম্পানি আলিবাবা গ্রুপ দারাজ’কে কিনে নেয়। আলিবাবা গ্রুপের নিয়ন্ত্রণাধীন দারাজ বর্তমানে বাংলাদেশে ব্যবসা করছে। দারাজ থেকে পণ্য কিনে প্রতারণার শিকার হয়েছেন অনেকেই। এখন প্রতারণার ‘মহাগুরু’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন গ্রাহকরা।

নগদ টাকা পণ্য পৌঁছে দিলেও পণ্যের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে দারাজের বিরুদ্ধে। বিশেষ ‘ছাড়’ দেয়ার নামে নিম্নমানের পণ্য দেয়ার অভিযোগ করছেন গ্রাহকরা। দারাজের ‘লোভনীয় ছাড়’কে ‘লোভনীয় প্রতারণা’ বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা। দারাজের এই প্রতারণা নতুন নয়। এর আগেও দারাজের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন অনেকেই।

যাত্রাবাড়ী এলাকার মোহাম্মদ ইসহান মির্জা বলেন, ‘আমি একটি পাওয়ার ব্যাংক কিনেছিলাম। তার মধ্যে একটা পুরাতন ব্যাটারি দিয়েছিল। আবার ভেতরে পানির গ্লাস দিয়ে রেখেছে। যাতে ওজন হয়।’ তার অর্ডার নম্বরটি হলো-৬০৮৭৩৮৪৯৪৯৩৯৯৬২। দারাজ থেকে ডিনার সেট কিনে প্রতারণার শিকার হয়েছেন মাসুম বিল্লাহ। তার অর্ডার নম্বর হলো-৬০৯২৪৩৩১০০০৪৬৭০।

অন্যদিকে অনলাইন শপ ‘দারাজ’-এর বিরুদ্ধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে এ পর্যন্ত ৮১৭টি প্রতারণার অভিযোগ জমা পড়েছে। এসব অভিযোগের গণশুনানিতে হাজির না হওয়ায় দারাজের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানা গেছে। বুধবার জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বাবলু কুমার সাহা টেলিভিশন চ্যানেল আরটিভির অনলাইনকে এসব কথা জানান।

সেই অনলাইনকে তিনি আরো বলেন, ‘বেশকিছু অনলাইন শপ বিভিন্ন কৌশলে ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছে। এর মধ্যে দারাজ অন্যতম। তাদের বিরুদ্ধে প্রতারণার যে ৮১৭টি অভিযোগ পেয়েছি, সেগুলোর তদন্ত চলছে। অভিযোগের বিষয়ে গণশুনানির জন্য দারাজকে একাধিকবার তলব করা হলেও তারা হাজির হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। অনলাইন শপে ১ টাকায় প্রতারণার ফাঁদ পাতা হলে সেটির দিকেও নজর দেয়া হবে। আমরা তো কেবল অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নিতে পারি। অনলাইন প্রতারণা সাইবার অপরাধের মধ্যেই পড়ে। সেই হিসেবে যেসব সংস্থা সাইবার অপরাধ দমনে কাজ করে তাদেরকে আরো তৎপর হতে হবে বলে আমি মনে করি।’

ভোক্তাদের উদ্দেশ্যে ভোক্তা অধিকারের মহাপরিচালক বলেন, ভোক্তাদের আরো সচেতন হতে হবে। যাতে করে কেউ তাদের সঙ্গে প্রতারণা করে, প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিতে না পারে সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

এসব বিষয়ে জানতে দারাজ বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে ই-মেইল করেন এই প্রতিবেদক। সেই সঙ্গে দারাজ বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ নির্বাহী (বিপণন) মো. ফয়েজের সঙ্গে ফোনে কথা বললে তিনি ই-মেইলে প্রশ্ন পাঠাতে বলেন। প্রতিবেদক এসব বিষয়ে প্রশ্ন পাঠালেও গতকাল রাতে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো উত্তর দেয়নি প্রতিষ্ঠানটি।