গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর বিভিন্ন ক্লাবে অবৈধ ক্যাসিনো চালানোর অভিযোগ অভিযান চালাচ্ছে র‌্যাব। ইতোমধ্যে ফকিরেরপুলে ইয়ংম্যান্স ক্লাব নামে ক্যাসিনো চালানোর অভিযোগে এক যুবলীগ নেতাকে গ্রেফতারের পর রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। খবর রয়েছে ঢাকার ৬০টি স্থানে এ ধরনের ক্যাসিনো রয়েছে। মুসলিম প্রধান বাংলাদেশের মানুষ ক্যাসিনোর সঙ্গে খুব একটা পরিচিত নয়। অনেকে জানতেনই না যে ঢাকায় ক্যাসিনো রয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই কয়েকদিনের ক্যাসিনো বিরোধী অভিযানে অনেকেই ‘ক্যাসিনো’ সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

প্রায় দুই হাজার বছর আগে জুয়া খেলার উত্থান। শুরুর দিকে অনিয়ন্ত্রিত জুয়ার আসরের কারণেই ক্যাসিনোর উৎপত্তি। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জুয়ার আসরে চলে ক্যাসিনোর রমরমা ব্যবসা। উড়ানো হয় হাজার হাজার কোটি টাকা। বিশ্বজুড়ে রয়েছে এমন অসংখ্য ক্যাসিনো যেখানে জুয়ার নেশায় মেতে থাকেন জুয়াড়িরা। আমেরিকা, রাশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, চীন, ভারত, নেপালসহ অসংখ্য দেশে গড়ে উঠেছে এই টাকা উড়ানোর আসর। অনেক ধনাঢ্য ব্যক্তি খেলার ছলে মনোরঞ্জনের জন্য এসব ক্যাসিনোতে এসে থাকেন।সাধারণত নামি হোটেল, রেস্টুরেন্ট, শপিং মল, দর্শনীয় স্থানের সাথে বা কাছেই এর অবস্থান থাকে; অনেক ক্যাসিনোতে আবার লাইভ রিয়েলিটি শো, কমোডি শো এর ব্যবস্থা থাকেই; সাথে এক্সটিক ( ভাড়া পাওয়া যায় এমন মেয়ে/ছেলে ) সার্ভিসও থাকে। ক্যাসিনো তে সুন্দরি মডেল কিংবা পার্টি গার্ল জুয়া খেলোয়াড়িদের উৎসাহ দিয়ে থাকে।

বাংলাদেশের ইতিহাসে ক্যাসিনো
বাংলাদেশ একটি মুসলিম প্রধান দেশ। আর ইসলামে জুয়া সম্পূর্ণ হারাম ও নিষিদ্ধ। তবে জুয়া বাংলাদেশের একটি অতিপরিচিত শব্দ। অলিতে গলিতে চোখ মেলে তাকালেই এর দেখা মিলে। তবে বেশ কয়েক বছর আগে এটা এতোটা খোলামেলা ছিলো না। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে গুঞ্জন আসে এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে আনুষ্ঠানিক ক্যাসিনো-এর খোঁজ পাওয়া যায়। বিষয়টি জানতে পেরে সরকার প্রধান শেখ হাসিনা ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং প্রশাসনিক তৎপরতা চালানোর নির্দেশ দেন।

সম্প্রতি র‍্যাব-১ এর অভিযানে রাজধানীর ফকিরাপুলে ইয়ংমেন্স ক্লাব, শাহজাহানপুরের মুক্তিযোদ্ধা চিত্তবিনোদন ক্লাব, ওয়ান্ডারার্স ক্লাব ও বনানীতে কয়েকটি ক্যাসিনোর সন্ধান পাওয়া যায়। র‍্যাব-১ এর সূত্র মতে, এগুলো পরিচালনা করেন রাজনৈতিক ক্ষমতাসীন দলের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের কিছু নেতা। এ সময়ে বেশ কয়েকজনকে আটকও করা হয়।

র‍্যাবের মতে, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৬০টিরও বেশি ক্যাসিনো রয়েছে। যেখানে জুয়ার পাশাপাশি নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়ে থাকে। প্রশাসন এদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন।