হাসান শান্তনু: দেশে করোনাভাইরাসে সাধারণ নাগরিকদের পাশাপাশি চিকিৎসক, সেবক-সেবিকার পর পুলিশ সদস্যরাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। এখন পর্যন্ত করোনায় পাঁচ পুলিশ সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার ঘটেছে আরো হৃদয়বিদারক ঘটনা। করোনা সন্দেহে ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে পুলিশের কনস্টেবল তোফাজ্জল আত্মহত্যা করেছেন। তিনি সোমবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে ঢাকার খিলগাঁওয়ের পাঁচতলা ভবনের ছাদ থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে সময় টিভির প্রতিবেদন বলছে।

খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান জানান, কনস্টেবল তোফাজ্জল বিশেষ শাখা এসবিতে কর্মরত ছিলেন। গত ২৯ এপ্রিল তাঁর করোনা পরীক্ষায় রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। বিষয়টি নিয়ে তাঁর স্ত্রীর কাছে সন্দেহ প্রকাশ করেন। তিনি ‘ধারণা’ করতে থাকেন, তাঁর পরীক্ষার ফল সঠিকভাবে আসেনি। তোফাজ্জল মানসিকভাবে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন।

তাঁর আত্মহত্যায় কয়েকটি প্রশ্ন জন্মায়। করোনা পরীক্ষায় উল্টা-পাল্টা রিপোর্ট ‘আসে না’। বৈশ্বিক দুর্যোগ করোনা মোকাবেলায় যুদ্ধরত এক সৈনিকের কাছে কী নীতিনির্ধারকরা এটা তুলে ধরতে পারেননি? রোগটিতে আক্রান্ত হলেও চিকিৎসা আছে, এমন নিশ্চয়তা কী তাঁকে দেয়া হয়নি? তিনি পিপিই পরে দায়িত্ব পালন করতেন? তাঁকে কী পিপিই দেয়া হয়েছিলো? পুলিশের অনেক সদস্যকে পিপিই না পরে রাস্তায় দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। তাহলে মজুদ থাকা পিপিইগুলো কাদের জন্য?

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, করোনায় পরীক্ষায় প্রায় নিয়মিত ভুলভ্রান্তি, কোনো কোনো হাসপাতালে অমানবিক পর্যায়ের চিকিৎসা ইত্যাদির কারণে কী তোফাজ্জল হতাশ হয়ে পড়েছিলেন? এখন তাঁর ছোট ছোট দুই সন্তান, স্ত্রীর কী হবে? রাষ্ট্র হয়তো কিছু ক্ষতিপূরণ দেবে। কিছু টাকা কী কোনো সন্তানের বাবার আদরের শূন্যতা পূরণ করে? স্বামীর ভালোবাসার তৃষ্ণা মেটাতে পারে?

পরিচিতি: সিনিয়র রিপোর্টার, বাংলাদেশের খবর
লেখাটি ফেসবুক টাইমলাইন থেকে নেওয়া।